ঈদের কেনাকাটা সারতে অনেকেই আসছেন জুয়েলারি দোকানে। দাম অনেক বেশি বললেও সাধ্যমতো কিনছেন তারা। তবে বিক্রেতারা বলছেন, বছর ব্যবধানে এবার স্বর্ণালংকার বিক্রি কমেছে অর্ধেক। নারীর অঙ্গে শোভাবর্ধনে বরাবরই কদর ধরে রেখেছে স্বর্ণালংকার। আর্থিক দুঃসময়ের সঙ্গী হিসেবেও বছরজুড়ে সমাদর রয়েছে মূল্যবান এই ধাতুর। উৎসবে যার চাহিদা বাড়ে খানিকটা।
ক্রেতারা বলছেন, অলংকার মেয়েদের খুব পছন্দের জিনিস। এটি যেমন শখ পূরণ করে, তেমনি এটি দুঃসময়ে আর্থিকভাবে সঙ্গও দেয়। ঈদে পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে স্বর্ণের গহনা কেনা হয়। ঠিক এক বছর আগে এক ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ১১ হাজার টাকা। যার বর্তমান বাজার মূল্য ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৪৫ টাকা। এর সঙ্গে রয়েছে ৫ শতাংশ ভ্যাট আর ৬ শতাংশ মজুরি খরচ। উৎসব রাঙাতে তাই এবার অনেক হিসাব কষেই স্বর্ণালংকার কিনতে হচ্ছে বলে জানান ক্রেতারা। তারা বলেন, এবার স্বর্ণের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় সাধ অনুযায়ী কেনা যাচ্ছে না।
বিক্রেতারা বলছেন, উচ্চমূল্যের কারণে এবার তাদের নেমেছে প্রায় অর্ধেকে। খুব উচ্চবিত্ত যারা, তারা শখ পূরণের জন্য কেনাকাটা করছেন, তাও সামান্য। গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ কমেছে বেচাকেনা। নগদ টাকায় কেনাবেচার চেয়ে পুরান অলংকার বদল করে নতুন ডিজাইনের গহনা কেনার প্রবণতা বেশি বলেও জানান দোকানিরা।
এদিকে বিশ্ববাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম। মূলত ফেডারেল রিজার্ভ চলতি বছর দুটি সম্ভাব্য সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত দেয়ার পর বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) স্বর্ণের দাম বিশ্ববাজারে সর্বকালের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। এছাড়া চলমান ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে স্বর্ণের আকর্ষণ আরও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৯ দশমিক ৮৯ ডলারে। যা দিনের শুরুতে পৌঁছেছিল রেকর্ড ৩ হাজার ৫৫ দশমিক ৯৬ ডলারে। আর ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৫৮ দশমিক ৪০ ডলারে বেচাকেনা হচ্ছে। হেরিয়াস মেটালস হংকং লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার ডিক পুন বলেন, ’অনিশ্চিত বাজার পরিস্থিতি, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, দুর্বল মার্কিন ডলার ও পরবর্তীতে সুদের হার কমানোর প্রত্যাশার কারণে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে যে হারে দাম বাড়ছে, এতে যে কোনো সময় প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। আর বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। তাই যে কোনো সময় দেশের বাজারেও দাম সমন্বয় করা হতে পারে।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। সে হিসেবে সবশেষ গত ১৮ মার্চ দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ১ হাজার ৪৭০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৪৫ টাকা। যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এছাড়া ২১ ক্যারেট ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯০০, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৪৯৮ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর ১৫ বার দেশের বাজারে সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ১১ বার, আর কমেছে মাত্র ৪ বার। আর ২০২৪ সালে দেশের বাজারে মোট ৬২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৭ বার।
তবে স্বর্ণের দাম বাড়লেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫৭৮ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ৪৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ১১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫৮৬ টাকায়।
বাংলাস্কুপ/ প্রতিবেদক /এনআইএন